রূপপুরে জ্বালানি লোডিং শুরু হল, একবারের লোডেই চলবে দেড় বছর। করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকট কাটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঐতিহাসিক পথচলা শুরু হচ্ছে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে করে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে বাংলাদেশ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করলো।
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের মাধ্যমে রূপপুর প্রকল্প তার চূড়ান্ত গন্তব্যের দিকে এগিয়ে গেল। এতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় প্রবেশ করল। জানা গেছে, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে একবার জ্বালানি লোড করলে টানা প্রায় দেড় বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। পরে নির্দিষ্ট সময় পর এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি প্রচলিত তেল, গ্যাস বা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় একটা বড় সুবিধা, কারণ এখানে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহের কোনো সমস্যা থাকবে না। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লিতে কাজে লাগানোর জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম বান্ডেলের প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ১৬৮টি বান্ডেল সংগ্রহ করেছে, যার মধ্যে ৫টি সংরক্ষণ করা হবে।
জ্বালানি স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করতে ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগবে। এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চুল্লিতে নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়া চালু করা হবে, যা থেকে উৎপন্ন তাপ বাষ্প তৈরি করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।
প্রাথমিকভাবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ৬ টাকা ধরা হলেও সাম্প্রতিক হিসাবে তা প্রায় ১২ টাকায় দাঁড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রূপপুর প্রকল্পের প্রতিটি ইউনিটের ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। সব পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে কয়েক মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে আশা করা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে, এই প্রকল্প দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ক্ষেত্রেও একটি বড় বিজয় হিসেবে বিবেচিত হবে।

0 Comments